Active Galaxy (Part-2)

পর্ব – ১ এ আমরা এই গ্যালাক্সি কি এবং এদের শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে জেনেছি। আজকে আমরা আরো নতুন কিছু তথ্য জানবো এই পর্ব – ২ তে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

অন্য নিউক্লিয়াসে নক্ষত্র থেকে বিকিরণ উৎপাদিত হতে পারে না এবং এই নিউক্লিয়াসগুলোর শক্তির সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য উৎস হচ্ছে “সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের মহাকর্ষীয় শক্তি (Mass > 108 ).”

কিছু গ্যালাক্সিদের বর্ণালীগুলো অস্বাভাবিকভাবে প্রশ্বস্ত এবং বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বেগকে নির্দেশ করে। এগুলো হয়তো একটি ব্ল্যাকহোলের কাছে ঘূর্ণনবেগের কারণে অথবা নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণের কারণে ঘটে থাকে। আবার কিছু গ্যালাক্সি এর নিউক্লিয়াস থেকে সরাসরি জেট বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। এখন এই জেট শব্দটি অনেকে ভাবতে পারে যে গ্যালাক্সি থেকে জেট প্লেন কীভাবে বের হয়? আসলে বিষয়টি এমন নয়। এই জেট মানে কি তাহলে? যারা জানেন না চলুন  তাহলে এবার একটু এই জেট সম্পর্কে জেনে আসা যাক।

জেট (Jet):

আমরা সবাই আমাদের বাস্তবজীবনে একটি জিনিস বহুবার দেখেছি আর তাহলো পাইপ থেকে যখন উচ্চচাপে পানি ছাড়া হয় তখন তা তীব্র বেগে বেরিয়ে আসে। তাইনা? জেটের ক্ষেত্রেও অনেকটা এমনটাই ঘটে । জেট হলো মূলত পদার্থের একটি বীম যা মূলত এস্ট্রোনোমিকাল অবজেক্ট থেকে বের হয়। এই ঘটনাটি বিভিন্ন এস্ট্রোফিজিকাল সিচুয়েশনের উপর ভিত্তি করে ঘটে থাকে। তবে এই জেটকে প্রধান ২টি ভাগে ভাগ করা যেতে পারেঃ

১। গ্যালাকটিক জেট (Galactic Jet)

২। নাক্ষত্রিক জেট (Stellar Jet)

গ্যালাকটিক জেট হলো সেই জেট যা মূলত কোনো একটি গ্যালাক্সির নিউক্লিয়াস থেকে বেরিয়ে আসে এবং নাক্ষত্রিক বা তারার জেট হলো সেই জেট যা কোনো নক্ষত্র বা তারার অভ্যন্তর থেকে বেরিয়ে আসে। যেহেতু জেট একটি এস্ট্রোফিজিকাল ঘটনা যেখানে মূলত আয়োনাইজড পদার্থ (Ionized Matter) নিঃসরণ করে আর সেই বীমটি কিন্তু আবর্তনের অক্ষ বরাবর থাকে। আর যখন এটি আলোর গতির কাছাকাছি পৌছায় তখন সেই এস্ট্রোফিজিকাল জেট গুলো আপেক্ষিক জেট (Relativistic Jet) এ পরিণত হয় কারণ তার প্রভাব Special Relativity থেকে লক্ষণীয়।

সচেয়ে বড় এবং সক্রিয় জেটগুলোর বেশিরভাগ সক্রিয় গ্যালাক্সি (Active Galaxy) যেমন: কোয়েজার (Quasars) এবং রেডিও গ্যালাক্সি (Radio Galaxy) এর কেন্দ্রস্থলে বা গ্যালাক্সিগুচ্ছের (Galaxy Clusters) মধ্যে থাকা “সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল (Supermassive Blackhole)” দ্বারা তৈরী হয়। এই জাতীয় জেটগুলোর দৈর্ঘ্য কয়েক মিলিয়ন পারসেক (Parsec) পর্যন্ত হতে পারে। পারসেক কি তা আমরা অন্য কোনো একটি সিরিজে জানবো।

চিত্রঃ ”Accretion Disk”

এবার আমরা ফিরে আসি আমাদের আগের প্রসঙ্গে। সাধারণ গ্যালাক্সিদের জন্য আমরা মনে করে থাকি যে গ্যালাক্সিতে পাওয়া প্রতিটি তারা যে পরিমাণের শক্তি নির্গত করে তা আসলে সক্রিয় গ্যালাক্সি (Active Galaxy) দের ক্ষেত্রে সত্য নয়। সক্রিয় গ্যালাক্সি (Active Galaxy) তে আরো বেশি পরিমাণে শক্তি থাকতে হবে যা বৈদ্যুতিক চৌম্বকীয় বর্ণালী (Electromagnetic Spectrum), অবলোহিত (Infrared), রেডিও (Radio), অতিবেগুনী (UV) এবং এক্সরে (X-ray) অঞ্চলে পাওয়া যায়। বেশিরভাগ সাধারণ গ্যালাক্সিগুলোর মতো সক্রিয় গ্যালাক্সি (Active Galaxy) এর কেন্দ্রেও একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল আছে। তাহলে নেহাতই প্রশ্ন জাগে যে পার্থক্যটা কোথায়? পার্থক্যটা হচ্ছে সাধারণ গ্যালাক্সিদের থাকা ব্ল্যাকহোল থেকে প্রচুর শক্তি জেট আকারে বের হয় না যেটি সক্রিয় গ্যালাক্সি (Active Galaxy) এর কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল থেকে ঘটে। যেহেতু সমস্ত পদার্থ ব্ল্যাকহোলের আকর্ষণের কারণে তার মধ্যেই পড়বে সুতরাং কোণিক ভরবেগ এটিকে তখন ঘূর্ণায়মান সর্পিলাকার একটি ডিস্কে রূপান্তরিত করবে। আর এই ডিস্কের নাম আমরা কমবেশি সবাই শুনেছি আর তাহলো “এক্রেশন ডিস্ক (Accretion Disk).”  আর এই ডিস্কটি মহাকর্ষীয় বল এবং ঘর্ষণজনিত বলের কারণে তা উত্তপ্ত হয়ে উঠে।

৩য় পর্বে আমরা এই অসাধারণ গ্যালাক্সি সম্পর্কে আরো কিছু বিস্তারিত জানবো।